একটি অনুসন্ধান (research ) বা গবেষণা পত্রঃ ধর্ষণ, শিকড়, প্রভাব, ও মুক্তি - ১

 একটি অনুসন্ধান (research ) বা গবেষণা পত্রঃ ধর্ষণ, শিকড়, প্রভাব, ও মুক্তি  -১

~ আত্মজ উপাধ্যায়


ধর্ষণ মূলতঃ সমাজের  একপেশে পক্ষপাতী দোষে দুষ্ট ও বিচার্য বিষয় জাত অপরাধ। নারী যখন তার স্বামীকে বলে তোমার শরীরের শক্তি দিয়ে, পুরুষাংগ দিয়ে আমাকে পিষ্ট করে ফেল, আরো জোরে জোরে আমার যোনিতে আঘাত কর, তখন ধর্ষণ হয়না। একই কাজ যখন কোন পুরুষের বিরুদ্ধে আংগুল তুলে নারী বলে, আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে করেছ, তখন সমাজ নির্বিচারে বলে দেয়, এটা ধর্ষণ। সমাজ আদালতে যাবার আগেই পুরুষটিকে হত্যা করতে চায়, গণধোলাই দেয়। গণধোলাইয়ে আদালত কাউকে সাজা দেয়না। আদালত রাস্ট্রের সর্বোচ্চ রায় দেয়না। রায় দেয় সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক লোকেরা, প্রচারের লোকেরা। আদালত নিতান্ত একটা নাটকের মঞ্চ। অক্ষম ও দুর্বল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার পায়নাী দৃশ্য পৃথিবীর সর্বত্র।

অপরাধ সবাই করে। পৃথিবীতে বহু ধরণের ও জঘন্যতম অপরাধ ঘটে। রাস্ট্রের রাস্ট্রপতি থেকে, বিচারালয়ের বিচারক থেকে একদম ভিখারি - সবাই অপরাধ করে, অপরাধ না করলেও সাজা হয়, আবার অপরাধ করেও সাজা হয়না। এটা নির্ভর করে আপনি কতটা শক্তিশালী ও প্রভাবশালী বা প্রচার ক্ষমতার অধিকারী। ভণ্ডামি এখান থেকে শুরু।

ধর্ষণের চেয়ে জঘন্যতম অপরাধ মানুষ করে, কিন্তু ধর্ষণ শব্দটার মধ্যে প্রণয়ঘটিত- যোনি ও পুরুষাংগের লড়াই আছে। মানুষ কিছুটা পর্ণোগ্রাফির/ চটি গল্পের স্বাদ পায়। চর্চা করে মজা পায়, যত চর্চা করে ততই নিজেকে পুণ্যিবান মনে করে।

সমাজে লাখ-লাখ লোকের টাকা কেউ বা কোন গোষ্ঠি চুরি করে সরিয়ে ফেলে, তার বিচার ধর্ষণের মত প্রচার বহুল নয়।শাস্তি হয়না। আতংকবাদীরা পরিষ্কার শ'য়ে শ'য়ে মেয়ে নিয়ে গিয়ে ক্রীতদাস বাজারে বিক্রী করে, অমানবিক যৌন লাঞ্ছনা দেয়, ধর্ষণ করে। মানুষের মস্তক খন্ডন করে, তার কোন বিচার হয়না। বিপ্লবের নামে, জন্মভূমির নামে, রাজনীতির নামে আকচার গণহত্যা হয়, তার কোন বিচার হয়না। ধর্ষণ করলে, বা কেউ ধর্ষক বলে আংগুল তুললে পুরুষের সাজা হয়। মহিলা ধর্ষণ করলে তার সাজা হয়না কারণ আদালত বলে মহিলারা ধর্ষণ করতে পারেনা। তার পুরুষাংগ নেই। কিন্তু সে তো ভয় দেখিয়ে , প্রলোভিত করে তার যোনিতে  অনিচ্ছুক কোন পুরুষের যৌনাঙ্গ প্রবেশ করায়, করাতে পারে। সেতো ছোট ছোট বাচ্চাছেলেদের আদর করার অছিলায়, ছেলেদের মুখ তার স্তনে চেপে ধরতে পারে, কিংবা বুকের উপর তুলে তার যৌনাংগ নিয়ে খেলতে পারে। না- আদালত বা বিধান নির্মাতারা এটা মানেনা, ফলে নারীকে ছাড়। আর নারীর বাড় বাড়ন্ত এখান থেকে শুরু। সে সতী, অবলা, দুর্বল। নিজেকে বলি (victim) সাজিয়ে, পিতৃতন্ত্রের উপর দোষ চাপিয়ে ক্ষমতার কাঙ্গাল। পুরুষ মেধা ও পরিশ্রম করে জয় করে, নারী মিথ্যা ও তার যোনিকে অস্ত্র বানিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে।

ধর্ষণ পশু পাখীরাও করে। সাধারণতঃ একটি কাক, সেও ধর্ষণ জানে, শুধু ধর্ষণ নয়, কাক মরে গেলেও মৃত কাকের উপর ধর্ষণ করতে আসে। আমি এসব বিশ্বাস করতামনা যদি না বিজ্ঞান ও গবেষণার বিষয় আশয়গুলি পড়াশুনা করতাম। প্রাণি জগতে বলপূর্বক সংগম করা লক্ষ লক্ষ বছরের অভ্যেস। মানুষেরও তাই। ধর্ষণ নারীও করে, বিজ্ঞান তাই বলে। কিন্তু বর্তমান সমাজে একটা ক্ষমতার রাজনীতি মহিলারা চালাচ্ছে, পুরুষকে যেন তেন প্রকারেন হাত বেঁধে প্রহার করে। এইভাবে দেউলিয়া নারী কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারেনা।

 


সূত্রঃ লাইভ সায়েন্স (livescience)

Comments